সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দশম শ্রেণী : জীবন বিজ্ঞান : পপুলেশন


১) পপুলেশন কি?
¶ -  বিশেষ কোন ভৌগলিক অঞ্চলে বসবাসকারী একই প্রজাতিভুক্ত জীব গোষ্ঠী কে বলা হয় পপুলেশন।  অর্থাৎ কোন বিশেষ বাস্তু তন্ত্রের বা বাসস্থানের কোন প্রজাতিভুক্ত সমস্ত জীবের সমাহারই হলো পপুলেশন বা জনসংখ্যা।
২) পপুলেশন এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি?
¶ - পপুলেশন এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো :- 
ক) পপুলেশন ঘনত্ব বা পপুলেশন ডেন্সিটি  :- কোন ভৌগলিক অঞ্চলের একক ক্ষেত্রে বা একক আয়তনে যে পরিমাণে কোন প্রজাতির জীব বাস করে তাকেই পপুলেশন ঘনত্ব বলে ।
যেমন :- কোন একটি বনে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে যতগুলো হরিণ কিংবা যতগুলো হাতি থাকে প্রতি একর জমিতে যতগুলো আম গাছ থাকে সেই সংখ্যাটি কে পপুলেশন ঘনত্ব হিসেবে ধরা হয়।
খ) নেটালিটি বা জন্মহার :- পপুলেশন প্রজাতির সদস্যরা যে হারে সন্তান-সন্ততি জন্ম দেয় তাকে বলে ন্যাটালিটি। অর্থাৎ  একক সময়ে জনন এর মাধ্যমে যে সংখ্যায় নতুন সদস্য পপুলেশনে যুক্ত হয় তাকে ন্যাটালিটি বলে।
গ) মর্টালিটি বা  মৃত্যুহার :- একক সময়ে কোন পপুলেশন এ যে সংখ্যায় জীবের মৃত্যু ঘটে তাকে মর্টালিটি বা  মৃত্যুহার বলে।
ঘ) লিঙ্গ অনুপাত:- যেহেতু স্ত্রী সদস্যরা সন্তান ধারণ করে সে কারণে পপুলেশন এদের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ প্রতি 1000 জন পুরুষ সদস্য কিছু স্ত্রী সদস্যের সংখ্যা হিসাব করা হয় এক্ষেত্রে সক্রিয় যৌনজীবন ধারণকারী স্ত্রীলোকের আনুপাতিক সংখ্যা প্রকৃত ভূমিকা পালন করে।
৩) বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কি কি?
¶-।     a) মৃত্যুর হার কম হওয়া।
b)  চিকিৎসার উন্নতির জন্য গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি হওয়া। এবং 
         c) খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিজ্ঞানের প্রয়োগের ফলে খাদ্যাভাব না ঘটা।
         d) এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রভূত উন্নতির কারণে আবহাওয়া এবং তার ভয়াবহতা সম্পর্কিত পূর্বাভাস পাওয়া।
৪) মানব জনসংখ্যা সম্পর্কে অধ্যয়ন এবং জ্ঞান অর্জন কে কি বলে? :-  ডেমোগ্রাফি ।
৫) ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সমস্যা গুলি বর্ণনা করো?
      বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা । ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রধান কয়েকটি সমস্যা হল :-
      i)  প্রাকৃতিক সম্পদের অতি ব্যবহার এবং হ্রাস :-  প্রকৃতির বেশিরভাগ সম্পদ , যেমন :- জলসম্পদ, বনজ সম্পদ ,খনিজ সম্পদ , প্রাকৃতিক সম্পদ ইত্যাদি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে । জনবসতি বেড়ে যাওয়ার কারণে গাছপালা কেটে বাসস্থান গড়ে তোলার প্রবণতা ক্রমবর্ধমান । ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য  হারাচ্ছে এবং সম্পদের পরিণতি ক্রমহ্রাসমান।
   ii ) অরণ্য ধ্বংস এবং বাস্তু তন্ত্রের ক্ষয় :- প্রচুর পরিমাণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গৃহ নির্মাণ , কল কারখানা নির্মাণ , এবং কাঠ সংগ্রহের কারণে যথেচ্ছভাবে অরণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে । অরণ্য ছাড়া বাস্তু তন্ত্র টিকে থাকা সম্ভব নয়,  সেই কারণে অরণ্যের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তু তন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূমিক্ষয়, জীব বৈচিত্রের বিলুপ্তি , মরুভূমির বিস্তার, জল , বায়ু দূষণের মাত্রা প্রভৃতি বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
  iii ) কৃষি জমির হ্রাস :- জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বাসস্থানের চাহিদা যত ক্রমাগত বাড়ছে তত ভারতবর্ষের তথা পৃথিবীতে কৃষিজমি বেশি মাত্রায় বাসভূমিতে পরিবর্তিত হয়েছে। দেখা গিয়েছে বড় শহরের তুলনায় ছোট শহরগুলিতে জমি বেশি ব্যবহৃত হয়েছে , এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থানে কৃষি জমি হ্রাসের হার সর্বাধিক। যার প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি , খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
  iv) মিষ্টি জলের অভাব:- পৃথিবীর মাত্র 3 শতাংশ মিষ্টি জল । এর মধ্যে 1-3 অংশ হিমবাহ আর মেরু বরফ। পৃথিবীর সমস্ত জলের মাত্র 1% পানযোগ্য বা ব্যবহারযোগ্য । জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষি , শিল্প এবং দৈনন্দিন জীবনে জলের প্রয়োজন অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার ভৌম জলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
   v) বায়ু এবং জল দূষণ :- প্রাকৃতিক ভাবে বা  মনুষ্যসৃষ্ট কারণে কোন তরল ও গ্যাসীয় বা ক্ষতিকর উপাদান বায়ুতে মিশে বায়ু দূষণ এবং  জলে মিশে জল দূষণ ঘটে । এর ফলে নানা ধরনের রোগ যেমন :- হাঁপানি , ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া , এলার্জি ঘটিত রোগ বা জল দূষণের ফলে টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হচ্ছে । এছাড়া জল দূষণের একটি বড় কারণ হল আর্সেনিক দূষণ । আর্সেনিক মিশ্রিত জল পান করলে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ হতে পারে ।
  vi) বায়ুমন্ডলের পরিবর্তন ও  বিশ্ব উষ্ণায়ন :- অধিক পরিমাণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাবে বায়ুমন্ডলে নানা রকম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় । গ্রীন হাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে বায়ুমন্ডলের গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে । বিজ্ঞানীরা এই অবস্থার নাম দিয়েছেন বিশ্ব উষ্ণায়ন।
vii ) জলাভূমি ধ্বংস :- জলাভূমিকে প্রকৃতির বৃক্ক বলে । জনসংখ্যার হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবাসস্থল নির্মাণের জন্য সমস্ত জলাভূমি বুজিয়ে সেখানে বহুতল বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে । এর ফলে পরিবেশগত কুফল দেখা গিয়েছে।
viii) খাদ্য সংকট:- কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার ফলে ফসল উৎপাদনের হার ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে ফলে খাদ্য সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে উপযুক্ত খাদ্যের অভাবে শিশুদের অপুষ্টি জনিত রোগ দেখা দিচ্ছে।
©  UNFPA -  United nation population fund.     © পূর্ববর্তী নাম ছিল United nation fund for population activities.
© মানবদেহে অনবরত সিক্সটি ডেসিবেল শব্দের উপর শব্দ শুনলে হৃদপিন্ডে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন নামক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে ।
© যখন ১৫০ ডেসিবেলবা তার বেশি শব্দ বিস্ফোরণের শব্দ ইত্যাদি কারণে এসে পৌঁছয় তখন একে উচ্চ প্রাবল্যের শব্দ বলে এই উচ্চ বর্ণের শব্দ মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা নষ্ট করে একে অ্যাকাউস্টিক ট্রমা বলা হয়।
© NIHL :- NOISE INDUCED HEARING LOSS.
@ ইউড্রেফিক প্যাথোজেন এর উদাহরণ হল অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু বাসিলাস অ্যান্থ্রাসিস।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নবম শ্রেণী :: ভৌত বিজ্ঞান :: অধ্যায় :-6 :: তাপ

@ তাপ এক প্রকার শক্তি যা গ্রহণে বস্তুর উষ্ণতা বাড়ে এবং যা বর্জন করলে বস্তুর উষ্ণতা কমে। @  অবস্থার পরিবর্তন না ঘটিয়ে যদি শুধু কেবলমাত্র উষ্ণতা  বৃদ্ধি করে তাহলে সেই তাপকে বলা হয় বোধগম্য তাপ। বস্তুর উষ্ণতা বৃদ্ধি থার্মোমিটারের সাহায্যে পরিমাপ করা হয় @ উষ্ণতার পরিবর্তন না ঘটিয়ে শুধু কেবলমাত্র অবস্থার পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় তাপ হল লীন তাপ। লীন তাপ এর মাত্রীয় সংকেত - L^2T^-2। @ অন্যভাবে লীন তাপ এর সংজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে:- নির্দিষ্ট চাপে একক ভরের কোন পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য যে পরিমান তাপ প্রয়োগ বা নিষ্কাশন করতে হয় সেই পরিমাণ তাপকে ওই পদার্থের সংশ্লিষ্ট অবস্থার পরিবর্তনের লীন তাপ বলে। @ ক্যালরিমিতির মূলনীতি :- ভিন্ন উষ্ণতার একাধিক বস্তুকে  পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে বস্তু গুলির মধ্যে  তাপের আদান প্রদান ঘটে যদি অন্য কোন ভাবে তাপক্ষয় না হয় তাহলে উষ্ণ বস্তুগুলি দ্বারা বর্জিত তাপ এবং শীতল বস্তুগুলি  দ্বারা গৃহীত তাপ সমান হয় এটাই ক্যালরিমিতির মূলনীতি। @ অর্থাৎ কোন বস্তু দ্বারা গৃহীত তাপ = বস্তুর ভর × বস্তুর আপেক্ষিক তাপ × উষ্ণতার ...

মুঘল সাম্রাজ্য ইতিহাস

বাবর 1526 খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভ করে এবং ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন। পিতার দিক থেকে বাবর তৈমুর লং এর উত্তরসূরী। মাতার দিক থেকে চেঙ্গিস খাঁর উত্তরসূরী। পানিপথের প্রথম যুদ্ধের পর বাবর নিজেকে দিল্লির বাদশা বলে ঘোষণা করেন। খানুয়ার যুদ্ধ 1527 খ্রিস্টাব্দে হয় বাবর এবং রানা সংগ্রাম সিং এর মধ্যে। খানুয়ার যুদ্ধে বাবর জয়লাভ করেন। গোয়ালিয়রের চান্দেরি দুর্গের মেদিনী রায়ের নেতৃত্বে রাজপুত্র সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছিল এবং বাবরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল এই যুদ্ধে মেদিনী রায়কে পরাজিত করে চান্দেরি দুর্গ দখল করেন বাবর। 1529 খ্রিস্টাব্দে গঙ্গা এবং ঘর্ঘরা নদীর সঙ্গমস্থলে  বাবর মাহমুদ লোদীকে পরাজিত করেন এবং এই যুদ্ধ ঘর্ঘরার যুদ্ধ নামে পরিচিত। বাবর উজবেগি ও তুর্কিদের কাছ থেকে তুঘলুমা যুদ্ধনীতি আয়ত্ত করেন। বাবর যুদ্ধক্ষেত্রে রুমি পদ্ধতি অনুসরণ করেন। বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে প্রথম আগ্নেয়াস্ত্রসহ ব্যবহার করেন। বাবর এর আত্মজীবনী তুজুক ই বাবরি তুর্কি ভাষায় রচিত একটি লেখা। বাবুর দুটি মসজিদ স্থাপন করেন প্রথমটি পানিপথের কাবুলি...